দ্রুতগতির আগুনঝরা বোলিং—যে বল ব্যাটারের ডান-বাঁ পাশ ঘেঁষে বাতাস চিরে বেরিয়ে যায়, তাতে যেন থাকে বারুদমাখা উত্তাপ। আর স্টাম্প লক্ষ্য করে ছোড়া ইয়র্কার ডেলিভারিগুলো হয়ে ওঠে ভয়ংকর সুন্দর। এমন পারফরম্যান্স দেখিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন বাংলাদেশের উদীয়মান পেসার নাহিদ রানা।

তবে নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে বাড়তি আলোচনায় খুব একটা আগ্রহ নেই এই তরুণ তুর্কির। ‘চাঁপাই এক্সপ্রেস’ তকমা নিয়েও রয়েছে তাঁর একধরনের অনাগ্রহ। একটি ভালো ডেলিভারি, একটি কার্যকর ওভার বা ম্যাচে প্রভাব ফেলতে পারলেই তাতেই সন্তুষ্ট থাকেন তিনি। এই সরলতা ও পেশাদার মনোভাবই প্রশংসা কুড়াচ্ছে দেশ-বিদেশে।

বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক খালেদ মাহমুদ সুজন, পেসার নাজমুল ইসলাম এবং সাবেক ওপেনার শাহরিয়ার নাফীস—তিনজনই নাহিদ রানাকে দেশের ক্রিকেটের মূল্যবান সম্পদ হিসেবে দেখছেন।

citytouch 728-X-90

খালেদ মাহমুদ সুজন বলেন, নাহিদ একজন অসাধারণ বোলার, যিনি পুরো সিরিজজুড়ে ১৪০ থেকে ১৫০ কিলোমিটার গতিতে ধারাবাহিকভাবে বল করেছেন। ইনজুরিমুক্ত থাকতে পারলে তিনি অনেক দূর যেতে পারবেন বলেও বিশ্বাস করেন এই সাবেক অধিনায়ক।

রাজশাহী অঞ্চলে টেপ টেনিস ক্রিকেট খেলার সময় থেকেই দ্রুতগতির বোলিংয়ে আগ্রহ ছিল নাহিদের—এমনটাই জানান সুজন। কোচিং দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি বলেন, গতি থাকলেও সুইং ও ইয়র্কার আরও উন্নত করতে পারলে নাহিদ আরও ভয়ংকর হয়ে উঠবেন। পাকিস্তানের কিংবদন্তি পেসার ওয়াসিম আকরামের পরামর্শের কথাও উল্লেখ করেন তিনি—পেসের সঙ্গে সুইং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

জাতীয় দলের বিদেশি কোচ শন টেইট ছাড়াও নাহিদের বোলিং নিয়ে কাজ করছেন কোচ নাজমুল হোসেন। তাঁর মতে, মাত্র ১১টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা এই তরুণকে এখন প্রতিপক্ষ বিশ্লেষণ করবে, তাই তাকে বোলিংয়ে বৈচিত্র্য আনতে হবে। ইয়র্কার ও স্লোয়ার আয়ত্তে আনার চেষ্টা করছেন নাহিদ, যা সফল হলে তাকে মোকাবিলা করা কঠিন হয়ে পড়বে।

নাজমুল মনে করেন, ২০২৭ সালের বিশ্বকাপের পর বাংলাদেশের পেস আক্রমণের নেতৃত্ব দিতে পারেন নাহিদ। তবে তাকে তিন সংস্করণে একসঙ্গে খেলানোর বিপক্ষে তিনি। কারণ, বাংলাদেশের ইতিহাসে এমন ধারাবাহিক ১৪০ প্লাস গতির বোলার বিরল—তাকে সংরক্ষণ করাও গুরুত্বপূর্ণ।

অন্যদিকে, শাহরিয়ার নাফীস মনে করেন, নাহিদের উপস্থিতিই প্রতিপক্ষ ব্যাটিং লাইনআপে আতঙ্ক ছড়ায়। দেশের মাটিতে টানা দুটি সিরিজ সেরা হওয়াকে বড় অর্জন হিসেবে দেখছেন তিনি। ভবিষ্যতের ফাস্ট বোলারদের জন্য নাহিদ একজন অনুকরণীয় আইকন হয়ে উঠবেন বলেও মত দেন সাবেক এই ব্যাটার।

ক্যারিয়ারের শুরুটা খুব একটা ভালো না হলেও, চলতি বছরে ঘুরে দাঁড়িয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন নাহিদ রানা। দুটি সিরিজে সেরা হয়ে মাশরাফি বিন মুর্তজার পর দেশের দ্বিতীয় পেসার হিসেবে এই কৃতিত্ব অর্জন করেছেন। তবে টানা দুই সিরিজ সেরা হওয়ার দিক থেকে তিনি ছাড়িয়ে গেছেন ‘নড়াইল এক্সপ্রেস’ মাশরাফিকেও।

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সাম্প্রতিক সিরিজে নাহিদের বোলিং ইকোনমি ছিল ৪.৪৬—যা তার ক্যারিয়ারের সেরা। তিন ম্যাচের সিরিজে ৮ উইকেট নিয়ে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন এই উদীয়মান পেস সেনসেশন।