বাংলাদেশ দলের সাবেক অধিনায়ক ও বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানকে ঘিরে আবারও আলোচনায় সরগরম ক্রিকেট অঙ্গন। ঘরের মাঠে পাকিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দলের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজকে সামনে রেখে দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। তবে ঘোষিত দলে নেই সাকিবের নাম।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) ঘোষিত এই দলে সাকিবের অনুপস্থিতিতে জাতীয় দলে তার ফেরা আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ফলে ভক্তদের মনে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—কবে আবার লাল-সবুজের জার্সিতে দেখা যাবে এই অলরাউন্ডারকে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আগ থেকেই দেশের বাইরে রয়েছেন সাকিব আল হাসান। এরপর থেকে প্রায় ১৬ মাস ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বাইরে আছেন তিনি। যদিও সম্প্রতি তাকে জাতীয় দলে ফেরানো নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছিল এবং পাকিস্তান সিরিজেই তার প্রত্যাবর্তনের আশা করেছিলেন ভক্তরা।
এদিকে ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করেছে। পরে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জানিয়েছিলেন, সাকিবকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরাতে রাষ্ট্র নমনীয় অবস্থানে রয়েছে। এতে সাকিবভক্তদের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়।
তবে সাকিবের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে আছে। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় এক ইফতার অনুষ্ঠানে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাতীয় দলে ফিরতে হলে সাকিবকে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে হবে। মামলায় আইনগতভাবে লড়াই করে নির্দোষ প্রমাণ করতে পারলেই তার দলে ফেরার পথ খুলে যেতে পারে।
অন্যদিকে বিসিবির গেম ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ আকবর এখনো সাকিবের প্রত্যাবর্তন নিয়ে আশাবাদী। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি এক পডকাস্টে তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর দায়ের হওয়া মামলাগুলো যাচাই-বাছাই করা হবে বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন। এতে ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি হতে পারে এবং সাকিবের ফেরার সম্ভাবনাও রয়েছে।
পাকিস্তান সিরিজের পর এপ্রিলে বাংলাদেশ সফরে আসবে নিউজিল্যান্ড জাতীয় ক্রিকেট দল। এরপর মে মাসে বাংলাদেশ সফর করবে অস্ট্রেলিয়া জাতীয় ক্রিকেট দল। পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এই তিনটি সাদা বলের সিরিজের কোনো একটিতে সাকিব জাতীয় দলে ফিরতে পারবেন কি না—তা এখন সময়ই বলে দেবে।










