ক্যাম্পাস


কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজ দলের কর্মীর নাক ফাটিয়ে পালানোর অভিযোগ ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে


ক্যাম্পাস প্রতিনিধি

ক্যাম্পাস প্রতিনিধি

প্রকাশিত:২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:০৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার

আপডেট:২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:১২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজ দলের কর্মীর নাক ফাটিয়ে পালানোর অভিযোগ ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়-এর আবাসিক হল শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হল-এ ছাত্রদলের এক নেতার বিরুদ্ধে নিজ দলের কর্মীদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে হলের তিন তলার ছাদে এ ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত তিন শিক্ষার্থী আহত হন।

 

আহতদের মধ্যে একজনের নাক ফেটে রক্তপাত হলে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল-এ নেওয়া হয়। ঘটনার পর রাতেই হল প্রাঙ্গণে সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভে ফেটে পড়েন।

 

অভিযুক্ত হিসেবে নাম এসেছে কুবি শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আতিকুর রহমান, সাবেক শিক্ষার্থী সাইফুল, ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী তরিকুল ও ১৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সিফাতের।

 

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা হলেন—নৃবিজ্ঞান বিভাগের ১৬তম ব্যাচের মাজহারুল ইসলাম আবির, অর্থনীতি বিভাগের ১৭তম ব্যাচের তোফায়েল আহমেদ নিবিড় এবং অ্যাকাউন্টিং বিভাগের একই ব্যাচের শিক্ষার্থী কাব্য। জানা গেছে, তারা সবাই ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত।

 

শিক্ষার্থীদের দাবি, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি আতিকুর রহমান কাউকে অবহিত না করে দত্ত হলের ৫০০২ নম্বর কক্ষে ওঠেন এবং একই কক্ষে ১৯তম আবর্তনের আরেক কর্মীকেও তোলেন। পাশাপাশি সিফাতকে নিয়মবহির্ভূতভাবে ২০৪ নম্বর কক্ষে ওঠানো হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে ১৮ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং হলের সিনিয়রদের অবহিত করেন।

 

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় আতিকুর রহমান কয়েকজন কর্মীকে নিয়ে বিভিন্ন কক্ষে গিয়ে শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ সিটে অবস্থান করার নির্দেশ দেন। এ সময় বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। রাতের দিকে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

 

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রতিবাদ জানাতে গেলে আতিকুর রহমান নিবিড়ের কলার ধরে চড় মারেন। বাধা দিতে গেলে আবিরকে ধাক্কা দেওয়া হয় এবং কাব্যকে নাকে ঘুষি মারা হলে তার নাক ফেটে যায়। পরে সাধারণ শিক্ষার্থীরা এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা হল এলাকা ত্যাগ করেন।

 

তোফায়েল আহমেদ নিবিড় বলেন, ছাদে থাকা অবস্থায় আতিক আমার কলার ধরে চড় মারে। আরেকজনকে নাকে ঘুষি মেরে রক্ত বের করে দেয়। আমাকে ধাক্কা দিলে আমার হাত মচকে যায়। সে আমাকে রাজনৈতিকভাবে মারধর করেছে।

 

কাব্যের বন্ধু হুসাইন বিন আলি জানান, কাব্যের নাকের হাড় ভেঙে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকরা। পরদিন নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া হবে।

 

অভিযুক্ত আতিকুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

 

কুবি শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মুস্তাফিজুর রহমান শুভ বলেন, সাংগঠনিকভাবে বিষয়টি সমাধান করা হবে।

 

হলের প্রাধ্যক্ষ ড. ম. জনি আলম বলেন, এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি। হল প্রশাসনের কারও সম্পৃক্ততা থাকলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রক্টরিয়াল বডির সঙ্গে আলোচনা করে বহিরাগতদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।

 

সাধারণ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে হলগুলোতে অছাত্র বা দলীয় পরিচয়ে শিক্ষার্থী তোলার প্রবণতা বেড়েছে। তাদের দাবি, একটি পক্ষ হল দখল ও প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে।

 

ঘটনার পর ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।


সম্পর্কিত

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্রদল

জনপ্রিয়


ক্যাম্পাস থেকে আরও পড়ুন

ঢাবি শিক্ষিকা শেহরীন মোনামির পদত্যাগ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন অধ্যাপক শেহরীন আমিন ভূঁইয়া (মোনামি)। সোমবার (১১ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

বিয়ে করছেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম, পাত্রী কে?

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহ-সভাপতি (ভিপি) এবং বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক সম্পাদক সাদিক কায়েম বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন। আগামী ১৩ মে তার বিয়ের অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে বলে ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির পদত্যাগসহ ৯ দফা দাবি ছাত্রদলের

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হায়দার আলীর পদত্যাগসহ ৯ দফা দাবি জানিয়েছে শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। বুধবার (৬ মে) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি উপস্থাপন করেন সংগঠনটির নেতারা।

অভিযোগের মুখে খুবির বিজয়-২৪ হলের প্রভোস্টকে অব্যাহতি, তদন্ত কমিটি গঠন

অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচরিতার অভিযোগের প্রেক্ষিতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের ‘বিজয়-২৪’ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক সাঈদা রেহেনাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।