বাংলাদেশ


নড়বড়ে সাঁকোই ভরসা, প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করছে হাজারো মানুষ


জেলা প্রতিনিধি

জেলা প্রতিনিধি

প্রকাশিত:০৬ মে ২০২৬, ০৩:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার

নড়বড়ে সাঁকোই ভরসা, প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করছে হাজারো মানুষ

মনপুরার চর কলাতলীতে ঝুঁকিপূর্ণ নড়বড়ে সাঁকো দিয়ে পারাপার করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা | ছবি: সংগৃহীত


ভোলার মনপুরা উপজেলার ৫ নম্বর চর কলাতলী ইউনিয়নে একটি খালের ওপর সেতু বা কালভার্ট না থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন নড়বড়ে কাঠের সাঁকো দিয়ে পারাপার করতে হচ্ছে অন্তত চার হাজার মানুষকে।

 

কলাতলীর আবাসন বাজার থেকে মাওলানা বাজারে যাওয়ার পথে বড় এই খালটি এলাকাবাসীর চলাচলের প্রধান প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এখানে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি জানানো হলেও এখনো কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

 

স্থানীয়রা জানান, মনপুরার ৫ নম্বর চর কলাতলী ইউনিয়নটি বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চল নিয়ে গঠিত। ভৌগোলিক কারণে এখানকার যোগাযোগ ব্যবস্থা সবসময়ই ঝুঁকিপূর্ণ। এর সঙ্গে খালের ওপর সেতু না থাকায় প্রতিদিনের চলাচল আরও কষ্টসাধ্য হয়ে উঠেছে।

 

সরেজমিনে দেখা গেছে, খালের ওপর বাঁশ ও কাঠ দিয়ে তৈরি সরু একটি সাঁকোই পারাপারের একমাত্র উপায়। সাঁকোটির অবস্থা অত্যন্ত নড়বড়ে এবং একসঙ্গে দুইজন চলাচল করাও কঠিন। সামান্য অসতর্কতায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।

 

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল কাদের বলেন, “প্রতিদিন এই সাঁকো দিয়ে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, নারী ও বৃদ্ধদের চলাচল করতে হয়। একটু পা পিছলে গেলে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আমরা আতঙ্কে থাকি।”

 

হালিমা বেগম নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, “বাজারে যেতে হলে এই সাঁকোই একমাত্র পথ। বর্ষা এলেই পানি বেড়ে যায়, তখন ভয় আরও বাড়ে। শিশুদের কোলে নিয়ে পার হতে হয়।”

 

এক শিক্ষার্থী জানায়, প্রতিদিন স্কুলে যেতে এই সাঁকো পার হতে হয় এবং বৃষ্টি হলে ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। অনেক সময় পিছলে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

 

এলাকাবাসী আরও জানান, চর কলাতলীতে এখনো কোনো বেড়িবাঁধ না থাকায় ঝড়-জলোচ্ছ্বাস ও বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। এ অবস্থায় নড়বড়ে সাঁকোটি টিকবে কি না তা নিয়েও শঙ্কা রয়েছে।

 

তাদের আশঙ্কা, আসন্ন বর্ষা ও ঝড়ের সময় সাঁকোটি ভেঙে গেলে পুরো এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। এতে শিক্ষা, চিকিৎসা ও বাজার ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে।

 

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত একটি স্থায়ী সেতু বা কালভার্ট নির্মাণ করা হলে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমবে এবং নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।


সম্পর্কিত

ভোলা

জনপ্রিয়


বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন

ফ্লাইট এক্সপার্টের বিরুদ্ধে ৩৫ কোটি টাকার মানিলন্ডারিং মামলা, অনলাইন ট্রাভেল খাতে আস্থার সংকটের শঙ্কা

অনলাইনভিত্তিক ট্রাভেল সেবা প্রতিষ্ঠান ফ্লাইট এক্সপার্ট (এফইবিডি)-এর বিরুদ্ধে প্রায় ৩৫ কোটি টাকা মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। বিমানের টিকিটের নামে গ্রাহক ও সাব-এজেন্টদের কাছ থেকে অগ্রিম অর্থ গ্রহণের পর বহু ক্ষেত্রে টিকিট সরবরাহ না করার অভিযোগের প্রেক্ষাপটে এ মামলা করা হয়েছে। খাতসংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, ঘটনাটি দেশের অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সি (ওটিএ) খাতের প্রতি গ্রাহকদের আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

দেশের সড়কে বিওয়াইডির ১ হাজারের বেশি নিউ এনার্জি ভেহিকেল, উদযাপিত হলো নতুন মাইলফলক

বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরুর পর দেশের সড়কে ১ হাজারের বেশি নিউ এনার্জি ভেহিকেল (এনইভি) সরবরাহের মাইলফলক অর্জন করেছে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় নিউ এনার্জি ভেহিকেল (এনইভি) নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বিওয়াইডি। ২০২৪ সালের ৩ মার্চ ফ্ল্যাগশিপ ইলেকট্রিক সেডান ‘বিওয়াইডি সিল’-এর মাধ্যমে বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করার পর থেকে বিভিন্ন মডেলের এনইভি বাজারে এনে ক্রেতাদের চাহিদা পূরণে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি।

রাজধানীসহ কয়েকটি বিভাগে কমতে পারে বৃষ্টির তীব্রতা, বৃহস্পতিবার থেকে আবার বাড়ার আভাস

টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণের পর রাজধানীসহ দেশের কয়েকটি এলাকায় বৃষ্টির তীব্রতা ধীরে ধীরে কমতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। তবে বৃষ্টি পুরোপুরি থেমে যাবে না। বিশেষ করে খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় অতি ভারী বৃষ্টির প্রবণতা কমতে পারে। অন্যদিকে আগামী বৃহস্পতিবার থেকে মৌসুমি বায়ু আবার সক্রিয় হয়ে বৃষ্টিপাত বাড়তে পারে।

চট্টগ্রামে বন্যার্তদের পাশে সেনাবাহিনী, ৩ হাজার পরিবারে ত্রাণ ও ৫ হাজার মানুষকে চিকিৎসাসেবা

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি, হাটহাজারী ও বোয়ালখালী উপজেলাসহ তিন পার্বত্য জেলার বন্যাকবলিত এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য ত্রাণ বিতরণ, উদ্ধার কার্যক্রম এবং জরুরি চিকিৎসাসেবা অব্যাহত রেখেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। এ পর্যন্ত প্রায় ৩ হাজার পরিবারের কাছে ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি ৫ হাজার মানুষকে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বন্যার কারণে বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে আটকে পড়া প্রায় ৩ হাজার পর্যটককে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।