বাংলাদেশ


ঈদযাত্রায় সড়ক, রেল ও নৌপথে মৃত্যুমিছিল: ১২ দিনে ২৪১ জনের মৃত্যু


সহ-সম্পাদক

শাহারিয়া নয়ন

প্রকাশিত:২৬ মার্চ ২০২৬, ০৯:১০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার

ঈদযাত্রায় সড়ক, রেল ও নৌপথে মৃত্যুমিছিল: ১২ দিনে ২৪১ জনের মৃত্যু

ঈদুল ফিতরকে ঘিরে দেশের সড়ক, রেল ও নৌপথে আবারও বাড়ছে প্রাণহানির ঘটনা। ঈদযাত্রার পুরো সময়সীমা শেষ না হলেও প্রাথমিক হিসাবেই উদ্বেগজনক চিত্র সামনে এসেছে। মাত্র ১২ দিনেই সড়ক দুর্ঘটনায় দুই শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

 

ঈদের দিন, এর আগে ও পরের সাত দিন মিলিয়ে সাধারণত ১৫ দিনকে ঈদযাত্রা হিসেবে ধরা হলেও এবারের হিসাব এখনো পূর্ণাঙ্গ নয়। এর মধ্যেই গত ১২ দিনে দেশে ২০৫টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৪২ জন নিহত এবং অন্তত ৪৪১ জন আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

 

১৮ মার্চ রাজধানীর সদরঘাটে দুই লঞ্চের সংঘর্ষেও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। নিহত দুজন হলেন মো. সোহেল (২২) ও তাঁর বাবা। ১৮ মার্চ বিকেলে সদরঘাটের ১৪ নম্বর পন্টুন এলাকায় ঢাকা–ইলিশা (ভোলা) রুটের ‘আসা যাওয়া-৫’ লঞ্চে যাত্রী তোলার সময় ঢাকা-দেউলা-ঘোষেরহাট রুটের ‘এমভি জাকির সম্রাট-৩’ লঞ্চটি ধাক্কা দেয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, সংঘর্ষের সময় ‘আসা যাওয়া-৫’ লঞ্চের দুই যাত্রী গুরুতরভাবে আহত হন; একজন পানিতে পড়ে যান এবং অন্যজন লঞ্চের বাইরে পড়ে থাকেন।

 

ঈদের রাতেই কুমিল্লায় বাস রেললাইনে উঠে ট্রেনের সঙ্গে সংঘর্ষে ১২ জন নিহত ও ২৩ জন আহত হন।

 

২৫ মার্চ বিকেলে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়ায় একটি বাস পদ্মা নদীতে পড়ে গেলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ২৬ জনে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত পদ্মা নদী থেকে আরও তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে ভোর পর্যন্ত উদ্ধার করা হয়েছিল ২৩টি মরদেহ।

 

দুর্ঘটনার পেছনের কারণ

সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর তথ্যে দেখা যায়, ঈদ মৌসুমে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ, বেপরোয়া গতি, চালকের ক্লান্তি ও অদক্ষতা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায়। গত এক দশকে ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে সারা দেশে ২ হাজার ৬৯২টি দুর্ঘটনায় ৩ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানোর তাড়না, ফিটনেসবিহীন যানবাহন এবং দুর্বল ব্যবস্থাপনাও বড় কারণ। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় ৪২ শতাংশ দুর্ঘটনার জন্য দায়ী বেপরোয়া গতি, আর সড়কের নাজুক অবস্থাও একটি বড় ঝুঁকি।

 

করণীয় কী

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি, দক্ষ চালক তৈরি, যানবাহনের ফিটনেস নিশ্চিতকরণ এবং কঠোর তদারকি জরুরি। একই সঙ্গে চালক ও যাত্রীদের সচেতনতা বাড়ানো ছাড়া এই পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি সম্ভব নয়।


সম্পর্কিত

বাংলাদেশঈদযাত্রাসড়ক দূঘটনা

জনপ্রিয়


বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন

ফ্লাইট এক্সপার্টের বিরুদ্ধে ৩৫ কোটি টাকার মানিলন্ডারিং মামলা, অনলাইন ট্রাভেল খাতে আস্থার সংকটের শঙ্কা

অনলাইনভিত্তিক ট্রাভেল সেবা প্রতিষ্ঠান ফ্লাইট এক্সপার্ট (এফইবিডি)-এর বিরুদ্ধে প্রায় ৩৫ কোটি টাকা মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। বিমানের টিকিটের নামে গ্রাহক ও সাব-এজেন্টদের কাছ থেকে অগ্রিম অর্থ গ্রহণের পর বহু ক্ষেত্রে টিকিট সরবরাহ না করার অভিযোগের প্রেক্ষাপটে এ মামলা করা হয়েছে। খাতসংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, ঘটনাটি দেশের অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সি (ওটিএ) খাতের প্রতি গ্রাহকদের আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

দেশের সড়কে বিওয়াইডির ১ হাজারের বেশি নিউ এনার্জি ভেহিকেল, উদযাপিত হলো নতুন মাইলফলক

বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরুর পর দেশের সড়কে ১ হাজারের বেশি নিউ এনার্জি ভেহিকেল (এনইভি) সরবরাহের মাইলফলক অর্জন করেছে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় নিউ এনার্জি ভেহিকেল (এনইভি) নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বিওয়াইডি। ২০২৪ সালের ৩ মার্চ ফ্ল্যাগশিপ ইলেকট্রিক সেডান ‘বিওয়াইডি সিল’-এর মাধ্যমে বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করার পর থেকে বিভিন্ন মডেলের এনইভি বাজারে এনে ক্রেতাদের চাহিদা পূরণে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি।

রাজধানীসহ কয়েকটি বিভাগে কমতে পারে বৃষ্টির তীব্রতা, বৃহস্পতিবার থেকে আবার বাড়ার আভাস

টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণের পর রাজধানীসহ দেশের কয়েকটি এলাকায় বৃষ্টির তীব্রতা ধীরে ধীরে কমতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। তবে বৃষ্টি পুরোপুরি থেমে যাবে না। বিশেষ করে খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় অতি ভারী বৃষ্টির প্রবণতা কমতে পারে। অন্যদিকে আগামী বৃহস্পতিবার থেকে মৌসুমি বায়ু আবার সক্রিয় হয়ে বৃষ্টিপাত বাড়তে পারে।

চট্টগ্রামে বন্যার্তদের পাশে সেনাবাহিনী, ৩ হাজার পরিবারে ত্রাণ ও ৫ হাজার মানুষকে চিকিৎসাসেবা

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি, হাটহাজারী ও বোয়ালখালী উপজেলাসহ তিন পার্বত্য জেলার বন্যাকবলিত এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য ত্রাণ বিতরণ, উদ্ধার কার্যক্রম এবং জরুরি চিকিৎসাসেবা অব্যাহত রেখেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। এ পর্যন্ত প্রায় ৩ হাজার পরিবারের কাছে ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি ৫ হাজার মানুষকে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বন্যার কারণে বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে আটকে পড়া প্রায় ৩ হাজার পর্যটককে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।