বাংলাদেশ


ঘন কুয়াশা ও তীব্র শীতে কুড়িগ্রামে জনজীবন বিপর্যস্ত, বিপাকে খেটে খাওয়া মানুষ


দুরবীন ডেস্ক

দুরবীন ডেস্ক

প্রকাশিত:২৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৭:৩২ পূর্বাহ্ন, শনিবার

ঘন কুয়াশা ও তীব্র শীতে কুড়িগ্রামে জনজীবন বিপর্যস্ত, বিপাকে খেটে খাওয়া মানুষ

উত্তরের জেলা কুড়িগ্রামে ঘন কুয়াশা ও তীব্র শীতের কারণে জনজীবন চরমভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। হিমেল বাতাস আর শীতের প্রকোপে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ দিনমজুর, কৃষিশ্রমিক, রিকশা ও ভ্যানচালক, নৌকার মাঝিরা। কাজের অভাবে অনেক পরিবার পড়েছে চরম অনিশ্চয়তায়।

 

শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) সকাল ৬টায় কুড়িগ্রামে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ভোর থেকেই জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘন কুয়াশায় ঢেকে যায়। দিনের বেলাতেও অনেক সড়কে যানবাহনকে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে।

 

শীত নিবারণের জন্য অনেক মানুষ খড়কুটো ও কাঠ জ্বালিয়ে আগুন পোহাচ্ছেন। কিন্তু তারপরও ঠান্ডা সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানান স্থানীয়রা। শীতজনিত রোগে আক্রান্তের সংখ্যাও বাড়ছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা নিউমোনিয়া, সর্দি-কাশি ও শ্বাসকষ্টে বেশি ভুগছেন। গবাদিপশু নিয়েও বিপাকে পড়েছেন অনেক কৃষক।

 

ভোরের কুয়াশা ও ঠান্ডার কারণে মানুষ কাজে বের হতে পারছেন না। এতে দিনমজুর ও শ্রমজীবীদের আয় প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। কাজ না থাকায় অনেক পরিবার খেয়ে না খেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, শীত বাড়লেও চরাঞ্চলে এখনো পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র পৌঁছেনি। সরকারি ও বেসরকারি সহায়তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম।

 

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান রহিম উদ্দিন হায়দার রিপন বলেন, শহরের তুলনায় চরাঞ্চলের অবস্থা অনেক বেশি ভয়াবহ। এখানকার মানুষ দিন এনে দিন খায়। কাজ বন্ধ থাকলে তাদের খাবার জোটে না।

 

কুড়িগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. স্বপন কুমার বিশ্বাস জানান, শীতের কারণে শিশু ও বয়স্কদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়েছে। তিনি বলেন, শীতজনিত রোগ এড়াতে গরম কাপড় ব্যবহার, শিশু ও বয়স্কদের বাড়তি যত্ন এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা জরুরি।

 

এদিকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জেলার নয়টি উপজেলায় ইতোমধ্যে প্রায় ৫৪ লাখ টাকার ২২ হাজার কম্বল কিনে শীতার্ত মানুষের মাঝে বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

 

কুড়িগ্রামের রাজারহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ৬টায় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে এবং আগামী কয়েকদিন শীতের এই প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।

 

তীব্র এই শীতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন কুড়িগ্রামের চরাঞ্চলের খেটে খাওয়া মানুষ যাদের জীবনের প্রতিটি দিনই সংগ্রামের, আর শীত সেই সংগ্রামকে আরও কঠিন করে তুলেছে।


সম্পর্কিত

শাহজালাল বিমানবন্দর

জনপ্রিয়


বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন

ফ্লাইট এক্সপার্টের বিরুদ্ধে ৩৫ কোটি টাকার মানিলন্ডারিং মামলা, অনলাইন ট্রাভেল খাতে আস্থার সংকটের শঙ্কা

অনলাইনভিত্তিক ট্রাভেল সেবা প্রতিষ্ঠান ফ্লাইট এক্সপার্ট (এফইবিডি)-এর বিরুদ্ধে প্রায় ৩৫ কোটি টাকা মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। বিমানের টিকিটের নামে গ্রাহক ও সাব-এজেন্টদের কাছ থেকে অগ্রিম অর্থ গ্রহণের পর বহু ক্ষেত্রে টিকিট সরবরাহ না করার অভিযোগের প্রেক্ষাপটে এ মামলা করা হয়েছে। খাতসংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, ঘটনাটি দেশের অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সি (ওটিএ) খাতের প্রতি গ্রাহকদের আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

দেশের সড়কে বিওয়াইডির ১ হাজারের বেশি নিউ এনার্জি ভেহিকেল, উদযাপিত হলো নতুন মাইলফলক

বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরুর পর দেশের সড়কে ১ হাজারের বেশি নিউ এনার্জি ভেহিকেল (এনইভি) সরবরাহের মাইলফলক অর্জন করেছে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় নিউ এনার্জি ভেহিকেল (এনইভি) নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বিওয়াইডি। ২০২৪ সালের ৩ মার্চ ফ্ল্যাগশিপ ইলেকট্রিক সেডান ‘বিওয়াইডি সিল’-এর মাধ্যমে বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করার পর থেকে বিভিন্ন মডেলের এনইভি বাজারে এনে ক্রেতাদের চাহিদা পূরণে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি।

রাজধানীসহ কয়েকটি বিভাগে কমতে পারে বৃষ্টির তীব্রতা, বৃহস্পতিবার থেকে আবার বাড়ার আভাস

টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণের পর রাজধানীসহ দেশের কয়েকটি এলাকায় বৃষ্টির তীব্রতা ধীরে ধীরে কমতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। তবে বৃষ্টি পুরোপুরি থেমে যাবে না। বিশেষ করে খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় অতি ভারী বৃষ্টির প্রবণতা কমতে পারে। অন্যদিকে আগামী বৃহস্পতিবার থেকে মৌসুমি বায়ু আবার সক্রিয় হয়ে বৃষ্টিপাত বাড়তে পারে।

চট্টগ্রামে বন্যার্তদের পাশে সেনাবাহিনী, ৩ হাজার পরিবারে ত্রাণ ও ৫ হাজার মানুষকে চিকিৎসাসেবা

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি, হাটহাজারী ও বোয়ালখালী উপজেলাসহ তিন পার্বত্য জেলার বন্যাকবলিত এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য ত্রাণ বিতরণ, উদ্ধার কার্যক্রম এবং জরুরি চিকিৎসাসেবা অব্যাহত রেখেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। এ পর্যন্ত প্রায় ৩ হাজার পরিবারের কাছে ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি ৫ হাজার মানুষকে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বন্যার কারণে বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে আটকে পড়া প্রায় ৩ হাজার পর্যটককে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।