বাংলাদেশ


আবেগঘন পোস্টে দেশ, পরিবার ও প্রত্যাশার কথা বললেন জাইমা রহমান


দুরবীন ডেস্ক

দুরবীন ডেস্ক

প্রকাশিত:২৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৬:৪৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার

আবেগঘন পোস্টে দেশ, পরিবার ও প্রত্যাশার কথা বললেন জাইমা রহমান

দীর্ঘ বিরতির পর দেশে ফেরার আগে আবেগে ভরা একটি ব্যক্তিগত অনুভূতির কথা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমান। আগামী বৃহস্পতিবার ২৫ ডিসেম্বর বাবার সঙ্গে দেশে ফেরার প্রাক্কালে তিনি তার দাদি, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এবং বাংলাদেশকে ঘিরে নিজের অনুভূতি, স্মৃতি ও দায়বদ্ধতার কথা প্রকাশ করেন।

 

মঙ্গলবার সকালে নিজের ফেসবুক পেজে বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে শৈশবের একটি ছবি পোস্ট করেন জাইমা রহমান। সেই পোস্ট দ্রুতই বিএনপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজসহ দলটির অসংখ্য নেতাকর্মীর মাধ্যমে শেয়ার হতে থাকে।

 

পোস্টে জাইমা রহমান লিখেছেন,

তিনি জানেন তার পরিবারকে ঘিরে দেশের মানুষের কৌতূহল ও প্রত্যাশা রয়েছে। সেই প্রত্যাশা কখনো আশার, কখনো প্রশ্নের জায়গা থেকে আসে। আর সেই প্রত্যাশা পূরণের দায়ভার পরিবার হিসেবে তারা গভীরভাবে অনুভব করেন।

 

দাদির সঙ্গে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি লেখেন,

তার সবচেয়ে প্রিয় স্মৃতিগুলোর একটি হলো বেগম খালেদা জিয়াকে একজন মমতাময়ী অভিভাবক হিসেবে পাওয়া। স্কুলজীবনে ফুটবল টুর্নামেন্টে মেডেল জয়ের পর দাদির অফিসে গিয়ে নিজের অর্জনের গল্প শোনানোর মুহূর্তটি আজও তার মনে গেঁথে আছে। তিনি অনুভব করেছিলেন, একজন দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়েও দাদি কতটা মনোযোগ দিয়ে নাতনির কথা শুনছিলেন এবং কতটা গর্ব অনুভব করেছিলেন।

 

জাইমা রহমান বলেন,

লাখো মানুষের কাছে বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন দেশের প্রধানমন্ত্রী, কিন্তু তার কাছে এবং পরিবারের কাছে তিনি ছিলেন স্রেফ ‘দাদু’ একজন আগলে রাখা অভিভাবক। সেই ছোট ছোট মুহূর্ত থেকেই তিনি নেতৃত্বের প্রথম পাঠ পেয়েছেন নম্রতা, আন্তরিকতা আর মন দিয়ে শোনার মানসিকতা।

 

বিদেশে কাটানো দীর্ঘ সময়ের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সতেরো বছর প্রবাসে থাকলেও তিনি কখনো নিজের শিকড় ভুলে যাননি। লন্ডনের জীবন তাকে বাস্তববাদী করেছে, বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি দিয়েছে, তবে তার হৃদয় সব সময় বাংলাদেশেই ছিল।

 

Related posts here

 

আইন পেশায় কাজ করার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে জাইমা লেখেন, মানুষের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে তিনি দায়িত্বশীলতা, সহমর্মিতা এবং ন্যায়বিচারের গুরুত্ব শিখেছেন। মানুষের জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়ানোর অভিজ্ঞতা যে শিক্ষা দেয়, তা কোনো পাঠ্যবই বা শ্রেণিকক্ষ দিতে পারে না।

 

পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান এবং ৫ আগস্টের আগে-পরে সময়গুলোতে তিনি নেপথ্যে থেকে যতটুকু পেরেছেন, ভূমিকা রাখার চেষ্টা করেছেন। তিনি বলেন, অনেক সময় কম কথা বলে বেশি শুনেছেন এবং ছোট ছোট কাজে সহযোগিতা করার চেষ্টা করেছেন।

 

দেশে ফেরা প্রসঙ্গে জাইমা রহমান লেখেন, দেশে ফিরে দাদির পাশে থাকতে চান, বাবাকে সর্বাত্মক সহায়তা করতে চান এবং একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে দেশের জন্য নিজের সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখতে চান। মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে, নিজের চোখে বাংলাদেশকে নতুন করে জানতে চান বলেও তিনি জানান।

 

পোস্টের শেষ অংশে তিনি বলেন, তার নিজের গল্প যেমন আছে, তেমনি প্রত্যেক মানুষেরই একটি করে গল্প আছে। সেই গল্পগুলোকে ধারণ করেই সবাই মিলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

 

জাইমা রহমানের এই আবেগঘন পোস্ট দেশে ফেরার আগেই রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।


সম্পর্কিত

বিএনপিজাইমা রহমানতারেক রহমান

জনপ্রিয়


বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন

সীমান্ত হত্যার শেষ কোথায়, আবারও বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার আমঝোল সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের গুলিতে খাদেমুল ইসলাম নামে এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন।

ঈদুল আজহা উপলক্ষে সুন্দরায় ৭০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে বিশেষ ক্যাম্পেইন শুরু করেছে বিউটি ও লাইফস্টাইল রিটেইল চেইন সুন্দরা। ঈদ পর্যন্ত চলা এ আয়োজনে কসমেটিকস, পারফিউম, লাইফস্টাইল পণ্য ও খেলনায় থাকছে সর্বোচ্চ ৭০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়।

ঘরেরবাজারের উদ্যোক্তাদের নতুন লাইফস্টাইল ও ফ্যাশন ব্র্যান্ড ‘তাবায়া’ চালু

দেশের জনপ্রিয় ই-কমার্স ও নিরাপদ খাদ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ঘরেরবাজারের উদ্যোক্তারা নতুন লাইফস্টাইল ও ফ্যাশন ব্র্যান্ড ‘তাবায়া’ চালু করেছেন।

কুষ্টিয়ায় স্কুলে যাওয়ার পথে নিখোঁজ নবম শ্রেণির ছাত্র সাব্বির

কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলায় স্কুলে যাওয়ার পথে মোঃ সাব্বির হোসেন (১৪) নামে নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী নিখোঁজ হয়েছে। মঙ্গলবার (১২ মে) সকাল থেকে তার কোনো সন্ধান না পাওয়ায় পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।