www.durbinnews.com::জানি এবং জানাই

কাশ্মীরিরা বলছেন, আমরা স্বাধীনতা হারালাম



 দূরবীন ডেস্ক    ৮ আগস্ট ২০১৯, বৃহস্পতিবার, ১২:২৭   আন্তর্জাতিক বিভাগ


কাশ্মির। পৃথিবীর এক বৃহৎ কারাগার। এখনতো কেবল দুনিয়া থেকেই নয়, ভারত থেকেও বিচ্ছিন্ন। অবরুদ্ধ কাশ্মির থেকেও অবশ্য বিক্ষোভের খবর পাওয়া যাচ্ছে। যদিও অতিরিক্ত প্রায় ৫০ হাজার সেনা মোতায়েন করে পুরো কাশ্মিরই দখল করে নিয়েছে ভারত। ভারত সরকার জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যের বিশেষ সাংবিধানিক মর্যাদা প্রত্যাহার করে নেওয়ার ফলে সেখানকার মানুষ মনে করছেন তারা স্বাধীনতা হারিয়েছেন। বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে এমনটাই বলা হয়েছে। কেউ বলছেন, যে চুক্তির মাধ্যমে কাশ্মীরের ভারত-ভুক্তি হয়েছিল, সেটাই তো এখন আর রইল না  আর তার মধ্যেই অন্যান্য রাজ্য থেকে কাশ্মীরে যাওয়া হাজার হাজার মানুষ সেখান থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছেন যে কোনও উপায়ে। বাইরে থেকে খবর সংগ্রহ করতে কাশ্মীরে যেসব সাংবাদিক গেছেন , তাদের প্রায় কেউই সর্বশেষ খবরাখবর জানাতে পারছেন না। ভারত শাসিত কাশ্মীর রবিবার রাত থেকেই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন, কারফিউ চলছে, দোকান, স্কুল কলেজ সব বন্ধ। বন্ধ মোবাইল আর ল্যান্ডলাইন ফোন, ইন্টারনেট পরিষেবা, এমনকী কেবল টিভিও। বিবিসি-র সংবাদদাতা জুবেইর আহমেদ বেশ কয়েকদিন চেষ্টার পরে কোনওক্রমে সেখানকার পরিস্থিতি আর মানুষের কথা রেকর্ড করে দিল্লিতে পাঠাতে সক্ষম হয়েছেন। তিনি জানাচ্ছেন, রাজধানী শ্রীনগরে নিরাপত্তা বাহিনী গাড়িতে চড়ে মাইকে বলতে বলতে যাচ্ছে যে কারফিউ জারি রয়েছে, কেউ যেন বাড়ির বাইরে না বের হন। রাস্তাঘাট শুনশান কদিন ধরেই। প্রতিটা রাস্তায়, গলির মুখে নিরাপত্তা বাহিনীর পাহারা।

জুবায়ের বলছিলেন, শ্রীনগর বা তার আশপাশের এলাকায় আমরা যেখানেই যাচ্ছি, সেখানে মানুষজন প্রায় চোখেই পড়ছে না। যে কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলতে পেরেছি, তারা সকলেই সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। বেশিরভাগ নেতাই আটক হয়ে রয়েছেন, তারা ছাড়া পাওয়ার পরে যেভাবে নির্দেশ দেবেন, সেইভাবে প্রতিবাদে রাস্তায় নামবেন মানুষ, এমনটাই বলছেন তারা। দিল্লির মানবাধিকার সংগঠন রাইটস এন্ড রিস্কস অ্যনালিসিস গ্রুপের প্রধান, সুহাস চাকমা বলছিলেন, এই সিদ্ধান্তে স্থানীয় মানুষদের সমর্থন পাবে না বুঝেই সরকার গোটা রাজ্যকে বিচ্ছিন্ন করে রেখে দিয়েছে। সরকার যেসব পদক্ষেপ নিচ্ছে, তাতে স্থানীয় মানুষের সমর্থন নেই। সেজন্যই যেকোন রকম প্রতিবাদ বন্ধ করার জন্য একরকম একনায়কতন্ত্র কায়েম করা হয়েছে সেখানে। কিন্তু হাতি মারা গেলে কি লুকিয়ে রাখা যায়?  বলছিলেন মি. চাকমা। বহু রাজনৈতিক নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। আবার কিছু এলাকায় বিক্ষোভ চলছে, এমন খবরও পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু সেইসব খবর যাচাই করার উপায় নেই। তবে জম্মু আর লাদাখ অঞ্চল থেকে জানা যাচ্ছে যে সেখানকার বহু মানুষ সরকারের এই সিদ্ধান্তের পরে বিজয়োল্লাস করছেন। ভারতের জাতীয় পতাকা নিয়ে আনন্দোৎসব, মিষ্টি বিলি, নাচ এসব হচ্ছে।

অন্যদিকে কাশ্মীরের বেশিরভাগ মানুষ এখনও খুব ভাল করে জানেনই না, যে সংবিধানের যে ধারা দুটির মাধ্যমে তাদের রাজ্যটিকে বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হয়েছিল, তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে।  তাদের কানে যেটুকু এসেছে, তাতেই তাদের মনে হয়েছে, যে স্বাধীনতা তারা ভোগ করতেন, সেটা হারালেন তারা। বারামুলার এক বয়স্ক লোক বিবিসিকে বলছিলেন, ওই ধারা দুটি আমাদের কাছে স্বাধীনতার মতো ছিল। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে যে আমি যেন স্বাধীনতা হারালাম। আমি এখন আর স্বাধীন নই। আরেক যুবকের কথায়, ভারত সরকারের যা ভাল মনে হয়েছে তা করুক। কিন্তু জম্মু-কাশ্মীরকে পুরোপুরি বন্ধ কেন করে দিল সরকার! তার মানেই এখানকার মানুষের বিরুদ্ধে কোনও পরিকল্পনা এটা। ৩৭০ আর ৩৫এ - এই দুটো ধারার মাধ্যমেই তো কাশ্মীরের ভারতভুক্তি হয়েছিল। সেদুটো তুলে দেওয়ার অর্থ বিয়েটাই তো ভেঙ্গে গেল।




 এ বিভাগের অন্যান্য


সিসির সাথে মধ্যাহ্নভোজে এরদোগানের অস্বীকৃতি


মাটির নীচে আমেরিকার ৬৩ কোটি ব্যারেল তেল ভান্ডার


পার্লামেন্টের প্রস্তাব না মানলে কারাগারে যেতে হতে পারে বরিস জনসনকে


গণতন্ত্রের কাছে এক প্রধানমন্ত্রীর হার


আসামে বাদ পড়াদের জন্য নির্মিত হচ্ছে বন্দিশিবির


নিরাপত্তা বাহিনীর কাঁদানে গ্যাসে মৃত্যু, কাশ্মীরে বিক্ষোভ


আরব শাসকদের কাছে কাশ্মীর নয়, মোদির গুরুত্ব বেশি


মোদিকে সর্বোচ্চ সম্মান দিল আরব আমিরাত


মালয়েশিয়ায় চাপের মুখে জাকির নায়েক


কাশ্মীর: সন্তান জন্মদানের খবরও পাঠানো যাচ্ছে না


কাশ্মীর নামের কারাগারে বন্দি ৭০ লাখ মানুষ


মোদীর সমালোচনার পর গ্রেপ্তার কাশ্মীরি নেতা


যে প্রধানমন্ত্রী রোগীর সেবায় ছুটে যান হাসপাতালে


কাশ্মীরিরা বলছেন, আমরা স্বাধীনতা হারালাম


ভারতের হাইকমিশনারকে বহিষ্কার করলো পাকিস্তান





All rights reserved www.durbinnews.com